৩৬-পরিশেষে সম্মানিত ভাই!… সম্মানিতা বোন!!

পরিশেষে

সম্মানিত ভাই!… সম্মানিতা বোন!!

হে আমার জাতি! আল্লাহ্‌র দাঈর ডাকে সাড়া দাও। আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আন, তিনি তোমাদের পাপরাশী ক্ষমা করে দিবেন এবং তোমাদেরকে যন্ত্রনা দায়ক শাস্তি থেকে পরিত্রান দান করবেন।

আল্লাহ্‌র শপথ আমি আপনার একজন হিতাকাংখী। এ সত্য আপনার কাছে প্রতিভাত হয়েছে। আপনি জেনেছেন সত্য দ্বীন একটিই- কয়েকটি নয়। তিনি সেই আল্লাহ্‌ যিনি ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব চিরস্থায়ী, একক, মুখাপেক্ষাহীন। তাঁর সাথে কাউকে শরীক করা হোক তিনি কখনই তা চান না। তাই আপনি ঐ সমস্ত লোকদের অন্তর্ভূক্ত হবেন না- যারা বলেঃ

(إناَّ وَجَدْناَ آباَءناَ عَلى أمَّةٍ وَإناَّ عَلَى آثاَرِهِمْ مُقْتَدُوْنَ) “আমরা আমাদের পূর্বপুরুষকে এই ধর্মের উপর পেয়েছি। নিশ্চয় আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করব।” (সূরা যুখরুফ- ২৩)

বরং আপনি বলুন, আমরা তাওহীদ পন্থী, আনুগত্যকারী ও অনুসরণকারী।

মাজার ও কবরের কাছে পশু যবেহ করার বা সেখানে শির্কের চর্চা কররার প্রচন্ড ভীড় দেখে আপনি ধোকা খাবেন না। কবরস্থ ব্যক্তিদের ব্যাপারে যে সমস্ত চাকচিক্যময় কথা ওরা রচনা করে- যেমন উমুক ওলী বিপদ উদ্ধার করতে পারেন, উমুক পীরের ওসীলায় আল্লাহ্‌ দুআ কবূল করেন- ইত্যাদি কথার জালে যেন আপনি আটকা না পড়েন।

দেখনু না আবু তালেবের অবস্থা! তিনি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পিতৃব্য ছিলেন। আজীবন তিনি নবীজিকে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর জন্য নানান কষ্ট হাঁসি মুখে বরণ করে নিয়েছেন। এমনকি তিনি নবীজিকে বিশ্বাসও করতেন। তিনি এটাও মানতেন যে, ইসলামই সত্য ধর্ম এবং মূর্তী মিথ্যা। এমনকি তিনি কখনো কখনো কবিতা আওড়াতেন:

والله لن يصلوا إليك بجمعهـم حتى أوسد في التـراب دفيـنا
ودعوتني وعلمت أنك ناصحي فلقد صدقت وكنت فينا أمينا
وعرضت ديناً قد عرفت بأنـه من خيـر أديـان البريـة دينا
لو لا الملامة أو حذار مسـبة لوجدتـني سـمحاً بذاك مبيناً

শপথ আল্লাহ্‌র!
ওরা ক্ষতি করতে পারবে নাকো তোমার
যদিও দাফন হয়ে যায় দেহ মাটিতে আমার।
তোমার আহ্বান- তুমি তো চাও আমার কল্যাণ
তুমি সত্য, তুমি যে আল্‌ আমীন।
পেশ করেছো এমন ধর্ম
যা পৃথিবীর ধর্মের উপর শ্রেষ্ঠ ধর্ম।
তিরস্কার ও গালিগালাজের যদি ভয় না থাকতো
আমাকে পেতে সুস্পষ্টভাবে এ দ্বীনের ঘোষণা দিতে।’

কিন্তু এ সত্যের অনুসরণ করতে একটি বিষয়ই তাকে বাধা দিয়েছিল; বাপ-দাদার বিরোধীতা ভীতি। দেখুন তার অবস্থা! তিনি মৃত্যু শয্যায় শায়িত। অতিবৃদ্ধ জীর্ণ শরীর। দুর্বল দেহ। মুমূর্ষু অবস্থা। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিয়রে দাঁড়িয়ে তাকে কঠিন জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য ব্যাকুল। দয়ার নবী বলছেন, চাচা! আপনি শুধু বলুন ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌’! বলুন লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌’! ওদিকে মাথার পাশে দন্ডায়মান কুরায়শের কাফের নেতৃবৃন্দ। যখন তিনি তাওহীদের বাণী উচ্চারণ করার ইচ্ছা করছেন, তখনই তারা বলছে, আপনি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করছেন?! আপনি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ছেড়ে দিচ্ছেন?! অপরদিকে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বারবার তাকে অনুরোধ করছেন কালেমায়ে শাহাদাত উচ্চারণ করার জন্য। আর তারা তাকে উদ্বুদ্ধ করছে পূর্বপূরুষের ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে। শেষ পর্যন্ত প্রাণ বায়ু বের হয়ে গেল- তিনি রয়ে গেলেন বাপ-দাদার ধর্মের উপর.. মূর্তী পুজার উপর.. মহান মালিকের সাথে শির্কের উপর।

মৃত্যু বরণ করলেন। মহাপ্রস্থান হল এ দুনিয়া থেকে। ঠিকানা কোথায়? জাহান্নাম। নিকৃষ্ট বাসস্থান। আল্লাহ্‌ তো কাফেরদের জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন। বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে প্রশ্ন করা হয়েছে- হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনার পিতৃব্য (আবু তালেব) আপনাকে ঘিরে রাখতেন এবং সাহায্য করতেন। আপনি কি তার জন্য কিছু উপকারে এসেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি তাকে জাহান্নামের মধ্যে অধিক আগুনের স্থানে পেয়েছি। তারপর তাকে জাহান্নামের কিনারে নিয়ে এসেছি। তার পায়ের নীচে আগুনের দু’টি পাথর রয়েছে যার কারণে তার মগজ টগবগ করে ফুটছে।”

বরং দেখুন না ইবরাহীম (আ:) এর দিকে! তিনি ছিলেন মূর্তী বিচূর্ণকারী, আল্লাহ্‌র ঘর নির্মাণকারী। আল্লাহ্‌র পথে নানারকমের বিপদের সম্মুখিন তাঁকে হতে হয়েছে, শাস্তি পেতে হয়েছে। তিনিও ক্বিয়ামত দিবসে তাঁর জম্মদাতা পিতার কোন উপকার করতে পারবেন না। কেননা পিতা মুশরিক অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে।

ছহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “ক্বিয়ামত দিবসে ইবরাহীম স্বীয় পিতা আযরের সাক্ষাত পাবেন। তখন আযরের মুখমন্ডল কাল কুৎসিত ও ধুলাবালি মিশ্রিত থাকবে। ইবরাহীম পিতাকে লক্ষ্য করে বলবেন, আমি কি আপনাকে বলিনি, আমার আবাধ্য হবেন না? তখন পিতা বলবে, আজ আর তোমার অবাধ্য হব না। ইবরাহীম বলবেন, হে আমার পালনকর্তা! আপনি অঙ্গীকার করেছেন পূণরুত্থান দিবসে আপনি আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আমার পিতার দূরাবস্থায় এর চাইতে বড় লাঞ্ছনা আর কি হতে পারে? তখন আল্লাহ্‌ বলবেন, নিশ্চয় আমি কাফেরদের উপর জান্নাত হারাম করেছি।

হে ভাই! এ সমস্ত বিষয়ে সতর্ক হোন এবং স্মরণ করুন সেই দিনের কথা: “যে দিন মানুষ পলায়ন করবে নিজ ভাই থেকে, তার মাতা এবং পিতা থেকে।  পত্নী ও সন্তানদের থেকে। সেদিন প্রত্যেকেরই নিজের এক চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে।” সতর্ক হোন সে দিনের জন্য “যে দিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন উপকারে আসবে না। সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহ্‌র কাছে আসবে সুস্থ ও পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে।”

আপনি ফিরে আসুন হক্বের পথে। আহ্বান করুন অপরকে সে পথে। দা’ওয়াত দিন তাওহীদের দিকে। সবার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে হেদায়াত ও সঠিক পথের প্রার্থনা জানাই। আল্লাহ্‌ই সর্বাধিক জ্ঞান রাখেন। ছাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামা ওয়া বারিক আলা রাসূলিল্লাহ॥

-সমাপ্ত-

অনুগ্রহ পূর্বক বইটি পড়া হলে অন্যকে উপহার দিন অথবা এমন স্থানে রাখুন, যাতে করে মানুষ উপকৃত হতে পারে।

জাযাকাল্লাহু খাইরান।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s