১৯-আহ্বান.. আহ্বান..

আহ্বান.. আহ্বান..

কবর সাথে জড়িত ব্যক্তিদেরকে আমি বলব, হে ভাই আসুন! আল্লাহ্‌র দাঈর ডাকে সাড়া দিন এবং আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনুন। আপনাদেরকে আল্লাহ্‌র কসম দিয়ে বলছি, আপনারা কি এমন কিছু জানেন যে, সালাফে ছালেহীনের মধ্যে কেউ কবরকে পাকা করেছেন বা তাকে চুনকাম করেছেন বা তার উপর ঘর তৈরী করেছেন? অথবা কোন মানুষের কাছে আশা-আকাংখা পেশ করেছেন? অথবা কোন মাজার বা দরগাহের উসীলা করেছেন? আর মহাজ্ঞানী বাদশাহ্‌ আল্লাহ্‌ তা‘আলা থেকে তাঁরা উদাসীন থেকেছেন?

আপনারা কি জানেন ছাহাবায়ে কেরাম বা তাবেঈন বা তাবেতাবেঈন বা অনুসরণীয় ইমামদের (রা:) কেউ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কবরের কাছে দন্ডায়মান হয়ে বা কোন ছাহাবীর কবরের কাছে বা নবী পরিবারের (আহলে বায়ত) কোন ব্যক্তির কবরের কাছে দন্ডায়মান হয়ে কোন প্রয়োজন পূরণের জন্য বা বিপদোদ্ধারের জন্য তাঁদের কাছে প্রার্থনা করেছেন?

আপনারা কি মনে করেন আহমাদ রেফায়ী, দোসক্বী, আবদুল কাদের জিলানী, বাদাভী, (খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী, শাহজালাল. শাহমাখদুম, শাহপরাণ, বারো আওলিয়া, বায়েজীদ বোস্তামীসহ দুনিয়ার হাজার হাজার মাজারের পীরগণ) আল্লাহ্‌র কাছে বেশী প্রিয় ও সম্মানিত এবং তাঁর কাছে পৌঁছার সর্বোত্তম মাধ্যম নবী-রাসূল এবং ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনদের থেকে?

হযরত ওমার (রা:) এর যুগে ছাহাবায়ে কেরামের অবস্থা দেখুন, যখন মদীনায় অনাবৃষ্টি ও খরা দেখা দেয়, তখন ওমার (রা:) ছাহাবীদেরকে নিয়ে ইস্‌তেস্কা (বৃষ্টি প্রার্থনা) ছালাত আদায় করার জন্য বের হন। তিনি দু’হাত উত্তোলন করে দুআ করেন, হে আল্লাহ্‌ পূর্বে যখন আমরা খরার সম্মুখিন হতাম তখন তোমার নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের জন্য যে দুআ করতেন তোমার কাছে তার উসীলা করতাম, তারপর তুমি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করতে। আজ আমরা তোমার নবীর চাচা আব্বাস (রা:) এর (দু‘আর) উসীলা করছি। অতঃপর তিনি আব্বাস (রা:)কে বললেন, হে আব্বাস! উঠুন এবং বৃষ্টি নাযিল হওয়ার জন্য আপনি দু‘আ করুন। তখন আব্বাস দন্ডায়মান হয়ে দু‘আ করলেন, লোকেরা তাঁর দু‘আয় আমীন বলল, ক্রন্দন করল কাকুতি-মিনতী করল.. শেষ পর্যন্ত তাদের মাথার উপর মেঘমালা ভেসে উঠল এবং বৃষ্টি হল।

দেখুন ছাহাবায়ে কেরামের অবস্থা! তাঁরা আমাদের চাইতে বেশী বুঝতেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে সর্বাধিক ভালবাসতেন। যখন তাঁরা প্রয়োজনের সম্মুখিন হলেন, বিপদে পড়লেন তাঁরা গেলেন না নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কবরের কাছে.. এরূপ বললেন না ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! আমাদের জন্য আল্লাহ্‌র কাছে সুপারিশ করুন… কখনই না.. তাঁরা ভালভাবেই জানতেন কোন মৃতের কাছে দু‘আ করা যায় না। হোক না তিনি নবী-রাসূল বা আল্লাহ্‌র প্রিয় কোন কোন ওলী।

আফসোস! বর্তমান কালের মিসকীনদের অবস্থা দেখে! কিভাবে তারা গলিত হাড়-হাড্ডির কাছে ধর্ণা দিচ্ছে, সেখানে করুণা ও ক্ষমা ভিক্ষা করার জন্য ভিড় করছে!

হে জাতি! ধিক্কার তোমাদেরকে! তোমরা কি মনে কর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ছবি, মূর্তী প্রভৃতি নিষেধ করেছেন- তা এমনিই করেছেন? নাকি তিনি ভয় করেছিলেন যে, মুসলমানগণ ছবি.. মূর্তীর ইবাদত শুরু করে দিবে এবং পূর্ব জাহেলিয়াতে প্রত্যাবর্তন করবে? কি পার্থক্য আছে ছবি মূর্তীকে তা‘যীম করা ও কবর-মাজারকে তা‘যীম করার মধ্যে? যখন কিনা উভয়টিই মানুষকে শির্কের দিকে টেনে নিয়ে যায় এবং তাওহীদের আক্বীদাহকে বিনষ্ট করে?

জাযাকাল্লাহু খাইরান।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s