১৪-ওরা সেখানে কি করে?

ওরা সেখানে কি করে?

কবর-মাজারের ভক্তরা যখন সে সকল স্থানে গমণ করে, তারা সাথে নিয়ে যায় গরু, ছাগল, মুরগি, ডিমসহ নানারকম খাদ্য সামগ্রী ও অর্থকড়ি। উদ্দেশ্য এগুলো মাজারের অধিবাসীর নৈকট্য হাসিলের জন্য পেশ করা। কখনো তারা মাজারের ওলী বা পীরের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু যবেহ্‌ করে, তাদের কবর তওয়াফ করে, কবরের মাটি নিয়ে মুখে মাথায় মাখে, প্রয়োজন পূরণ ও বিপদ উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা জানায়..।

এ সমস্ত কবর পূজারীদের অনেকে এমনও আছে যারা এ সমস্ত পীর বযুর্গের নামে মৃত ওলীর নামে কসম করে। কেউ যদি কোন বিষয়ে তাদের সামনে মহান আল্লাহ্‌র নামে কসম করে তবে তা তারা গ্রহণ করে না এবং বিশ্বাসও করে না। যখন ওলী বা পীরের নামে শপথ করে তখন তা গ্রহণ করে ও বিশ্বাস করে।

এদের স্পর্ধা এমনও হয়েছে যে তারা কবরের হজ্জ আদায়ের জন্য নতুন শরীয়ত প্রনয়ণ করেছে। যেমন কবরের তওয়াফ, মানত করার পদ্ধতি, যিয়ারত ও দুআ চাওয়ার নিয়ম, কোন কোন কাজ করলে মাজারস্থিত পীরের সাথে বেয়াদবী হবে। কতবার যিয়ারতে আসলে এক হজ্জের ছওয়াব পাওয়া যাবে… ইত্যাদি। এমনকি তাদের কট্টরপন্থীরা কবরকে বায়তুল্লাহিল হারাম কা’বা শরীফের সাথে সাদৃশ্য করে এক্ষেত্রে কিতাবও রচনা করেছে। কিতাবের নাম রেখেছে ‘মাজারের হজ্জ আদায়ের পদ্ধতি’। (নাঊযুবিল্লাহ্‌)

মাজার যিয়ারতের আদব!: শির্ক ও বিদআতের ক্ষেত্রে তাদের বাড়াবাড়ি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মাজার যিয়ারত কারীদের জন্য আদব ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন:

১) ওলী বা পীরের সম্মানার্থে তার মাজার যিয়ারতকারী জুতা খুলে বাইরে রেখে মাজারে প্রবেশ করবে।

২) ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে পাহারাদার বা খাদেমের অনুমতি নিতে হবে। কখনো কা’বা ঘরের তওয়াফ করার মত করে মাজারের যিয়ারত বা তওয়াফ করানোর জন্য সেখানে খাদেম নিযুক্ত থাকে।

৩) যিয়ারত শেষে বের হওয়ার সময় উল্টা পিঠে বের হতে হবে। মাজারের দিকে পিঠ ফিরিয়ে বের হওয়া যাবে না। কারণ তাতে ওলীর অসম্মান করা হয়।

যিয়ারতকারী মাজার ও গম্বুজের বরকত লাভের জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালায়: যেমন মাজারের মাটি চোখে-মুখে লাগায়, বয়ামে ভরে ঘরে নিয়ে যায়, মাজারের দেয়াল গ্রিল প্রভৃতি হাত দিয়ে স্পর্শ করে সে হাত চোখে মুখে সমস্ত শরীরে ও কাপড়ে বুলায়। যে কোন মাজারে আপনি চলে যান দেখবেন কিভাবে আল্লাহ্‌র অধিকার পদদলিত হচ্ছে- গাইরুল্লাহ্‌র ইবাদত হচ্ছে। সমাধিস্থ ব্যক্তির কাছে দু‘আ করছে দুআ চাচ্ছে তার সাহায্য কামনা করছে দুআয় অনুনয় বিনয় করছে…।

অনেক মহিলা নিজের বাচ্চাকে তাকে উপরে উঠিয়ে মাজারের ওলীর বরকত চাইছে। অনেকে কবরকে সিজদা পর্যন্ত করছে। নযর-মানত পেশ করছে। কেউ কেউ এ সমস্ত মাজারে সপ্তাহ বা মাস ধরে ই‘তেকাফ করছে- রোগ মুক্তি বা প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে। ভোটে জেতার জন্য অনেক নেতা-নেত্রী মাজারে গিয়ে ধর্ণা দিচ্ছে। এ সমস্ত উদ্দেশ্যে কোন কোন মাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট করে যিয়ারতকারীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বিশ্রামাগার।

যেমনটি আপনি দেখতে পাবেন যিয়ারতকারীর মধ্যে কি রকম বিনয় ও প্রশান্তি বিরাজ করছে। এমনভাবে প্রভাবিত হয়েছে যে ভয়-ভীতি ও আশা-আকাংখায় দু‘চোখ অশ্রু প্লাবিত হচ্ছে।

মাজারস্থ এসমস্ত ব্যক্তিগণ যেন এ দুনিয়ার মা‘বূদ। এরাই মানুষের ত্রাণকর্তা..।

অথচ আল্লাহ্‌র সাথে অন্য কারো ইবাদত চাই সে নবী হোক বা ফেরেস্তা.. আল্লাহ্‌ না তার অনুমতি দিয়েছেন না তিনি এতে সন্তুষ্ট। কেননা তা সুস্পষ্ট শির্ক।

জাযাকাল্লাহু খাইরান।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s