৫-বিভ্রান্তির সূচনা

বিভ্রান্তির সূচনা

সর্বপ্রথম শির্কের সূচনা হয় নূহ (আ:)এর জাতির মধ্যে। আল্লাহ্‌ তা‘আলা নূহ (আ:)কে তাদের মাঝে নবী হিসেবে প্রেরণ করলেন। তিনি তাদেরকে আল্লাহ্‌র সাথে শির্ক করতে নিষেধ করলেন। যে ব্যক্তি তার আনুগত্য করে আল্লাহ্‌র একত্বকে মেনে নিল, সে মুক্তি পেল। আর যে শির্কের উপর প্রতিষ্ঠিত রইল, আল্লাহ্‌ তাকে মহাপ্লাবনের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিলেন। নূহ (আ:)এর পর মানুষ বহুকাল তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তারপর ইবলীস আবার তাওহীদ ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠল। ফলে মানুষের মাঝে আবার শির্ক ছড়িয়ে পড়ল। আল্লাহ্‌ যুগে যুগে নবী-রাসূল প্রেরণ করতে থাকলেন। তাঁরা মানুষকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন এবং জাহান্নামের ভয় দেখালেন। শেষ পর্যন্ত মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)কে সর্বশেষ নবী হিসেবে প্রেরণ করা হল। তিনি মানুষকে তাওহীদের প্রতি আহ্বান জানালেন। মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ (সশস্ত্র যুদ্ধ) করলেন। মূর্তী ভেঙ্গে চুরমার করলেন।

রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)এর ওফাতের পর মানুষ তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে চলতে থাকল। এরপর কিছু লোকের মধ্যে আবার শির্কের প্রকাশ ঘটল। যার মূল কারণ ছিল ওলী-আওলিয়া এবং নেক লোকদের প্রতি সম্মান ও ভালবাসার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন। ফলে তাদের কবর সমূহে ঘর তৈরী হল, গম্বুজ বানানো হল, বিবেক বর্জিতভাবে কবরে মোমবাতি-আগরবাতী জ্বালানো হল, কবরকে পাকা করেই শেষ নয় তাকে লাল/সবুজ কাপড় দিয়ে ঢেঁকে দেয়া হল, উপরে টানানো হল মশারী (কি হাঁস্যকর ব্যাপার!) এবং শেষে শুরু হল সে সমস্ত কবরে প্রকাশ্য শির্ক। মানুষ তাদের কাছে দুআ চায়। তাদের কাছে বিপদ-আপদে উদ্ধার কামনা করে, সন্তান পাওয়ার আশায় তাদের মাজারে ধর্ণা দেয়, তাদের মাজারকে উদ্দেশ্য করে নযর-মানত করে…।

তারা এ শির্কের নাম রাখল নেক লোকদের ওসীলা বা মধ্যস্থতা। তাদের ধারণা অনুযায়ী এ হল নেক লোকদের প্রতি ভালবাসা। তারা মনে করল, এভাবে তাদেরকে ভালবাসলে এবং তাদের কবর সমূহকে সম্মান করলে আল্লাহ্‌র নৈকট্য পাওয়া যাবে। তারা ভুলে গেল ঠিক এ কথাই ছিল প্রথম যুগের মুশরিকদের। মূর্তী পূজা সম্পর্কে তারা বলেছিল,

( مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى)

“আমরা তো তাদের ইবাদত এজন্যই করি যে, তারা (এ মূর্তীগুলো) আমাদেরকে আল্লাহ্‌র নৈকট্য দান করবে।” (সূরা যুমার- ৩)

আশ্চর্যের বিষয় হল আপনি যদি বর্তমান যুগের কবর পূজারী এ মুশরিকদের কর্যাবলীর প্রতিবাদ করতে যান, তারা আপনাকে বলবে, আমরা তো তাওহীদ পন্থী, আমাদের পালনকর্তার ইবাদত করি। তারা ভাবে তাওহীদ অর্থ একথার স্বীকারোক্তি দেয়া যে, আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব আছে, তিনি স্রষ্টা, হায়াত-মওতের মালিক, আর তিনিই ইবাদত পাওয়ার বেশী হকদার অন্যরা নয়। তাওহীদ সম্পর্কে এটি একটি ভুল ধারণা। কেননা এ অর্থ অনুযায়ী আবু জাহাল, আবু লাহাবও ছিল তাওহীদপন্থী। কেননা তারা বিশ্বাস করত যে, আল্লাহ্‌ই সবচেয়ে বড় মাবূদ। তিনি সব ইবাদতের হক্বদার। কিন্তু তারা আল্লাহ্‌র সাথে অন্য মাবূদকে শরীক করত, এই বিশ্বাসে যে, তারা (ঐ মাবূদগণ) তাদেরকে আল্লাহ্‌র কাছে পৌঁছিয়ে দিবে, তাদের জন্য আল্লাহ্‌র কাছে শুপারিশ করবে।

জাযাকাল্লাহু খাইরান।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s