২-লেখকের ভুমিকা

লেখকের ভুমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্যে নিবেদিত। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহ্‌র রাসূল মুহাম্মাদের প্রতি। অতঃপর:

প্রথম ব্যক্তিঃ চিন্তিত ও দুঃখিত হয়ে আমার পাশে উপবেসন করল। বলল, শায়খ! এই প্রবাস জীবনে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আমি দুআ করি আল্লাহ্‌ দ্রুত আপনাকে স্বদেশে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

তার দুচোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠল। বলল, শায়খ! আল্লাহ্‌র কসম আপনি যদি জানতেন পরিবারের প্রতি আমার আগ্রহ এবং আমার প্রতি তাদের আগ্রহ কিরূপ!

শায়খ আপনি কি বিশ্বাস করবেন, আমার মাতা উমুক ওলীর কবরের কাছে আমার জন্য দুআ করার উদ্দেশ্যে চারশ মাইলের বেশী পথ সফর করেছেন। তিনি দুআ করেছেন, আমাকে যেন তার কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয়..! উক্ত ওলী খুবই বরকতময় ব্যক্তি। তাঁর দুআ কবূল হয়, বিপদ দূরীভূত করা হয়.. এমনকি তাঁর মৃত্যুর পরও।

দ্বিতীয় ব্যক্তিঃ শায়খ আল্লামা আবদুল্লাহ্‌ বিন জাবরীন আমার কাছে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি একদা আরাফাতের ময়দানে ছিলাম। ইহ্‌রামের কাপড়ে মানুষের শরীর আবৃত। সে সময় তারা বিনয়াবনত হৃদয়ে মহান মালিকের দরবারে হাত উঠিয়ে দুআয় রত। অশ্রু প্লাবিত করছে তাদের দু‘চোখ। তিনি বলেন, আমরা যখন আল্লাহ্‌র করুণা ধারা নাযিলের জন্য প্রার্থনায় ব্যাকুল, এমন সময় আমার দৃষ্টি আকর্ষন করল জনৈক লোক। লোকটি অতিশয় বৃদ্ধ। বয়সের ভার তার শরীরে সুস্পষ্ট। শরীর দুর্বল হয়ে গেছে। পিঠ বাঁকা হয়ে গেছে। কিন্তু সে প্রার্থনার হস্ত প্রসারিত করে বার বার উচ্চারণ করছে, হে উমুক ওলী.. আপনি আমার বিপদ দূর করে দিন!.. আল্লাহ্‌র কাছে আমার জন্য বিশেষভাবে সুপারিশ করুন!!.. আমাকে দয়া করুন!!!.. সে রোনাজারী করছে এবং চোখের পানি ফেলে সাদা দাড়ি ভিজিয়ে ফেলছে..।

তার এসব কথা শুনে যেন আমার শরীর অবশ হয়ে গেল। শরীরের লোম খাড়া হয়ে উঠল। আমি মনের অজান্তে চিৎকার করে উঠলাম। বললাম, আল্লাহ্‌কে ভয় কর! কিভাবে তুমি গাইরুল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করছ!? গাইরুল্লাহ্‌র কাছে প্রয়োজন পূরণের আবেদন পেশ করছ!? এ ওলী তো তোমার মতই একজন মাখলুক। আল্লাহ্‌র সৃষ্টি তাঁর মালিকানাধিন একজন গোলাম-দাস। সে তো তোমার কোন কথা শুনতে পায় না, তোমার ডাকেও সাড়া দিতে পারবে না। এক আল্লাহ্‌কে ডাক! তার সাথে শরীক করনা!!

বৃদ্ধ আমার দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে বলল, এই বুড়ো! দূর হও তুমি!! তুমি তো জাননা আল্লাহ্‌র কাছে সেই ওলীর কি মর্যাদা। আমি দৃঢ় বিশ্বাস রাখি যে এই ওলীর অনুমতি ছাড়া আসমান থেকে বৃষ্টির ফোটা পড়েনা.. যমীন থেকে কোন উদ্ভিদ উদগত হয় না..।

শায়খ বলেন, আমি বললাম, তুমি যা বললে তা হতে আল্লাহ্‌ অতি মহান এবং পবিত্র। তুমি আল্লাহ্‌র জন্য কি অবশিষ্ট রাখলে? আল্লাহকে ভয় কর! সে আমার একথা শুনে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে সেখান থেকে চলে গেল।

এভাবে তৃতীয় ব্যক্তি, চতুর্থ, পঞ্চম ব্যক্তি.. তাদের ঘটনা আপনি এবইয়ের পাতায় পাতায় পাবেন। সুবহানাল্লাহ্ কোথায় তারা যারা গাইরুল্লাহ্‌র দিকে দৌড়াচ্ছে? মৃত গলিত মানুষের নিকট বিপদ উদ্ধারের জন্য দরখাস্ত পেশ করছে? প্রয়োজন পূরণের জন্য ছুটাছুটি করছে? আহা, তারা মহান ফরিয়াদ শ্রবণকারী আল্লাহ্‌ থেকে কত জোযন জোযন মাইল দূরে! যিনি সত্য, সুমহান ও প্রতাপশালী বাদশার বাদশা। যিনি মাতৃগর্ভে ভ্রুণের নাড়াচাড়া অবলোকন করেন। দুঃখী ও বিপদগ্রস্থের দুআ শুনে থাকেন। তাঁর বান্দা তিনি ছাড়া কাউকে আহবান করবে তিনি কখনই তাতে সন্তুষ্ট নন।

আপনি যদি ক্রন্দন করতে চান তবে উম্মতের বর্তমান অবস্থা দেখে ক্রন্দন করুন। মুসলিম দেশ সমূহে আপনি নযর বুলান। কি দেখবেন? দেখবেন কবর-মাজারের ছড়াছড়ি। দরবার, মকাম, খানকা, আস্তানায়.. শহর-বন্দর ভরপুর। এ সমস্ত স্থান যেন বিপদগ্রস্থ, সঙ্কটাপন্ন মানুষের আশ্রয় স্থল- শেষ ভরসা। চোখ খোলার পর থেকেই শিশু শির্কের এসমস্ত আখড়া দেখে অভ্যস্ত হয়েছে। আর তা চর্চা করতে করতেই জীবন- যৌবন অতিবাহিত করছে- বার্ধক্যে পৌঁছেছে।

আমাদের এ বক্তব্য, এ আহবান, চিৎকার, কাতুতি-মিনতি, বিনয়, অনুরোধ-উপরোধ সে সকল লোকের খেদমতে যারা সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গমালায় আছাড় খাচ্ছে, অন্ধকার গলিতে বিভ্রান্ত  দিশেহারা হয়ে ছুটোছুটি করছে এবং নাজাতের কিশতীর সন্ধান না পেয়ে মুশরিক অবস্থাতেই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে যাচ্ছে। অথচ তারা মনে করে যে, মুসলমানই রয়ে গেছে।

নিশ্চয় এই তাওহীদের কিশতী, নূহের কিশতীর মত। যারা সে সময় তাতে আরোহণ করেছিল তারাই মুক্তি লাভ করেছিল। যারা তা থেকে দূরে থেকেছিল তাদের সলিল সমাধি ঘটিছিল। মুসলিম দেশ সমূহে আমরা কতই না ভাই-বোন বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীকে দেখেছি, দুনিয়ার জীবনে কৃত আমল সমূহ যাদের বরবাদ হয়ে গেছে। অথচ তারা মনে করে যে আমরা ভালই আমল করছি।

তাই এই পুস্তকের মাধমে সকলের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহবান! আসুন এক আল্লাহ্‌র ইবাদত ও দাসত্ব করি, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করি।

ডঃ মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল উরাইফী

পোঃ বক্স নং ১৫১৫৯৭, রিয়াদ- ১১৭৭৫

সঊদী আরব।

Email: arefe@arefe.com

জাযাকাল্লাহু খাইরান।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s